Probhat Barta

আড়ালে ‘গুপ্ত’ আঁতাত: বিএনপি নেতা টিটুর দ্বিচারিতা ফাঁস!

জাগো নারায়ণগঞ্জ: একদিকে রাজপথে দাঁড়িয়ে গলা ফাটিয়ে ফ্যাসিবাদী ষড়যন্ত্র নৎসাতের গর্জন, অন্যদিকে আড়ালে গিয়ে সেই ফ্যাসিবাদের মূল ক্যাডার ও সহযোগীদের বুকে টেনে নিয়ে কোটি কোটি টাকার অপরাধ সাম্রাজ্য দখল! ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটুর এমন চরম দ্বিমুখী নীতি ও ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ’ প্রীতির চাঞ্চল্যকর তথ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে নারায়ণগঞ্জ রাজনীতিতে। দীর্ঘদিন ধরে যেসব আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম চালিয়েছে, তাদেরই হাত ধরে টিটুর এলাকা দখলের এই নোংরা খেলায় চরম ক্ষুব্ধ ও বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।

সম্প্রতি ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত বিএনপির সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে শহিদুল ইসলাম টিটুসহ নেতারা দাবি করেন, দেশের শান্ত পরিবেশ অশান্ত করতে ঢাকায় বসে উস্কানি দিচ্ছে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ। স্বৈরাচারের দোসরদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ঢাকায় বসে গুপ্তভাবে লোক দিয়ে উস্কানি দেবেন না। সাহস থাকলে প্রকাশ্যে ফতুল্লায় আসুন। আপনারা অপরাধী বলেই আপনাদের সে সাহস নেই।

কিন্তু অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এর পেছনের এক চরম থমকে যাওয়ার মতো সত্য। মুখে আওয়ামী লীগের তথাকথিত এ, বি, সি টিমে’র পালিয়ে যাওয়ার গল্প শোনালেও, সেই আওয়ামী ক্যাডারদের আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’দের ফতুল্লাতেই ভিড়িয়েছেন খোদ টিটু নিজেই!

স্থানীয় রাজনীতি ও অপরাধ জগতের খবর নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক বিতর্কিত এমপি শামীম ওসমানের অন্যতম আস্থাভাজন ক্যাডার ছিলেন কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর হোসেন মীরু। আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো মেয়াদে কুতুবপুর জুড়ে মীরুর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল এক বিশাল চাঁদাবাজি, জবরদখল ও সন্ত্রাসীদের সাম্রাজ্য। আর এই সম্পূর্ণ অপরাধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও দেখাশোনা করতো শীর্ষ সন্ত্রাসী মহিদুল।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মীরু আত্মগোপনে চলে গেলে তার কোটি কোটি টাকার ব্যবসা, সিন্ডিকেট ও ক্যাডার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু। নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল ও একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে তিনি সরাসরি বুকে টেনে নেন মীরুর ডানহাত হিসেবে পরিচিত সেই চিহ্নিত দোসর ও শীর্ষ সন্ত্রাসী মহিদুলকে। অভিযোগ রয়েছে, মহিদুলের মাধ্যমে মীরুর রেখে যাওয়া সমস্ত অবৈধ আয়ের উৎস ও ব্যবসা এখন টিটুর বলয়ে গিয়ে জমা হচ্ছে।

টিটুর এই আওয়ামী তোষণ ও কায়েমী স্বার্থের রাজনীতির প্রতিবাদে ফাটল ধরেছে ফতুল্লা বিএনপিতে। ক্ষোভে ফুটছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রবীণ ও আন্দোলন সংগ্রাম করা বিএনপি নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, টটু সাহেব মঞ্চে উঠে বড় বড় বুলি ওড়ান যে, ঢাকায় বসে চক্রান্তকারীরা উস্কানি দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তব কথা হলো, ঢাকায় বসে কারও উস্কানি দেওয়ারই দরকার নেই! কারণ, ফতুল্লায় বসে উস্কানি ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির মূল লোক তো টিটু সাহেবের নিজের বুকের ভেতরেই আছে! শামীম ওসমানের ক্যাডার মহিদুলকে সাথে নিয়ে যখন বিএনপির সভাপতির ওঠাবসা করেন, যৌথ ব্যবসা করেন, গোপন তথ্য আদান-প্রদান করেন তখন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে উনার বক্তৃতা তো একটা প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। আসল চক্রান্তকারীরা তো বিএনপির ঘরেই সুখে-শান্তিতে আছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর রক্ত, ঘাম, জেল-জুলুম সহ্য করে যেসব সাধারণ কর্মী রাজপথে আন্দোলন ধরে রেখেছিলেন, আজ তাদের রক্ত ও ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে এই ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ’ পুর্নবাসনের দৃশ্য মেনে নিতে পারছেন না কেউই। সাধারণ নেতাকর্মীদের স্পষ্ট বক্তব্য, দল যখন জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশ ও সমাজ পুনর্গঠনে ব্যস্ত, তখন শহিদুল ইসলাম টিটুর মতো পদধারী নেতার এমন অপকর্ম দলের ভাবমূর্তিকে ধূলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে।

ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতির বিতর্কিত ভূমিকা, মীরুর সহযোগী মহিদুলকে দেওয়া রাজনৈতিক আশ্রয় এবং সমস্ত লেনদেনের অভিযোগ অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে খতিয়ে দেখে টিটুর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএনপি হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।

About The Author

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *