Probhat Barta

খুলনায় বৈদ্যুতিক তার চুরির হিড়িক,নগর জুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন,অভিযানে -২১ চোর আটক

মহিদুল ইসলাম (শাহীন) খুলনা: গভীর রাত হলেই যেন নগর জুড়ে বাড়ে আতঙ্ক। ট্রান্সফরমারের সংযোগের তার কেটে নেওয়ার অভিযোগ,আবার কোথাও বাড়িঘরে চুরির খবর,এছাড়া কোথাও ছিনতাইয়ের আশঙ্কা খুলনা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় রাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নগরবাসী।
সর্বশেষ নগরীর খালিশপুর থানার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের এমদাদিয়া জামে মসজিদের পাশে একটি ট্রান্সফরমারের বিদ্যুৎ সংযোগের তার কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে গভীর রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন অত্র এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান,প্রথমে তারা ঘটনাটিকে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট মনে করেছিলেন। পরে বাইরে বের হয়ে দেখতে পান, ট্রান্সফরমারের সংযোগের তার কেটে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিদ্যুৎ অফিসে জানানো হলে কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে সংযোগ সচল করার চেষ্টা করেন। তবে রাত ৩ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি। এ ঘটনা শুধু খালিশপুর নয়,খুলনা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় রাতের অন্ধকারে চুরি ও ছিনতাইয়ের আশঙ্কা নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। রুপসা পাওয়ার গ্রিড এলাকার শফি ডেন্টালের বিপরীতে একটি বাড়িতেও গভীর রাতে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাউজিং এলাকার বাসিন্দারাও রাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
তারা বলেন,“বাড়িতে থাকার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে বাইরে বের হয়ে দেখি সার্ভিসের তার কেটে নিয়ে গেছে। রাতের বেলায় এভাবে তার চুরি হওয়া খুবই আতঙ্কের বিষয়।”আরেক বাসিন্দা রমজান আলীর অভিযোগ,“অনেকে হয়তো জানেন এসব কাজ কারা করতে পারে, কিন্তু ভয় বা ঝামেলার আশঙ্কায় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।”নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতের আধারে বাইরে বের হলে চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কা অনেকের মধ্যেই কাজ করছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অন্ধকারে অপরাধের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় বলে মনে করছেন তারা। পরিবার নিয়ে বাইরে বের হলেও এখন নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করতে হয়। এই বুঝি গলার চেইন ছিনতাই হলো, কিংবা হাত থেকে ফোন কেড়ে নিল এমন ভয় কাজ করছে নগর বাসিদের মধ্যে। বিদ্যুতের গুরুত্বপূর্ণ তার ও সরঞ্জাম চুরি শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয় এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ বাড়ে। পাশাপাশি রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে অন্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। এ কারণে নগরবাসীর প্রশ্ন একই ধরনের ঘটনা যদি বারবার ঘটে থাকে,তাহলে চোর চক্র শনাক্তে কার্যকর নজরদারি কোথায়? চুরির সরঞ্জাম কোথায় যাচ্ছে, সেগুলো বা কারা কিনছে কিংবা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না এসব বিষয় তদন্তের দাবি উঠেছে। চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাকে ঘিরে নগরীর বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ এসব ঘটনার পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। তবে এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য ছাড়া কাউকে দায়ী করা যায় না। ফলে নগরবাসীর এই প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্পষ্ট বক্তব্য। নগরবাসীর প্রত্যাশা,গুঞ্জন বা রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কেউ যেন অপরাধ থেকে পার না পায় এবং নিরপরাধ কাউকেও যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়। খুলনা মহানগরের বাসিন্দাদের এমনটাই দাবি,শুধু চুরির পর বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ স্থাপনা ও সংযোগের নিরাপত্তায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি রাতে পুলিশের টহল জোরদার করতে হবে। নগরবাসীর প্রশ্ন একটাই রাত নামলেই যদি অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সক্রিয় হয়, তাহলে নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ কবে দেখা যাবে। মহানগরবাসী এখন শুধু চুরি হওয়া তার ফেরত বা বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত চান না,তারা চান, অপরাধের কারণ ও চক্র শনাক্ত হোক, প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং রাতের খুলনায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক। সার্বিক বিষয় খুলনা মহানগরী খালিশপুর থানার ওসি শাজাহান আহমেদ বলেন,বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বা তার চুরির ঘটনায় ২ টা মামলা হয়েছে। মামলার সুত্র ধরে ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া আটক অভিযান অব্যহৃত রয়েছে।

About The Author

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *