Probhat Barta

শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন সহ শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি ফেরাতে মাঠে জেলা প্রশাসন, বিসিক-ইপিজেডসহ শিল্পাঞ্চল পরিদর্শনে ডিসি-এসপি

প্রভাত বার্তা.কম: মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শিল্পে চলমান সহিংসতার সর্বশেষ পরিস্থিতি পরিদর্শনে মাঠে নেমেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার।

আজ বৃহস্পতিবার ০৫-১১-২৬ইং সকালে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি বিসিক, শিবু মার্কেট, ফতুল্লা, সাইনবোর্ড, সানারপাড়, আদমজী ইপিজেডসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, আজকের নারায়ণগঞ্জে কোথাও কোনো শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনা নেই। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ। কারখানাগুলোতে উৎপাদন চলছে। তবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিটি স্পটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনের শুরু থেকেই জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করে আসছে। আন্দোলন চলাকালীন প্রতিদিনই তিনি অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে মাঠে থেকে নিরসনে কাজ করে যাচ্ছেন।

এ সময় শ্রমিকদের প্রধান দাবির বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের প্রধান দাবি ছিল প্রতি তিন বছর পর পর নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা। সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট সময় আগেই মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধির নাম প্রদানে কিছুটা সময় নেওয়ায় বোর্ড গঠনে সামান্য বিলম্ব হলেও, নাম প্রাপ্তির পর পরই মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই এর প্রথম সভা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি জানান, সিনিয়র জেলা জজ পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত এই বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে আগামী ১লা জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বোর্ড কাজ পরিচালনা করছে।

ডিসি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত শ্রমবান্ধব, শ্রমিকবান্ধব ও শিল্পবান্ধব। তিনি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সার্বিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিষয়গুলো বিবেচনা করার স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি করা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

সম্প্রতি গার্মেন্টস মালিকদের সাথে সরকারের দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথেও বিশদ আলোচনা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, জেলা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন কোনো অবস্থাতেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করা হয়।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও তারা অত্যন্ত সংযম প্রদর্শন করেছেন এবং শ্রমিকদের ওপর বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থেকেছেন। তবে এই সুযোগে অপরাধী চক্র, যারা কারখানায় ভাঙচুর ও নাশকতা করছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক সাধারণ শ্রমিকদের কোনো প্রকার উসকানি ও গুজবে কান না দিয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকরা কাজে ফিরলে শিল্প উৎপাদন সচল থাকবে এবং শ্রমিকদের নিজস্ব কর্মসংস্থান ও জাতীয় অর্থনীতি সুরক্ষিত থাকবে।

About The Author

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *