নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নায়েব ও সহকারী নায়েবকে না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে অফিসে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেখা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের জন্য তারা সকাল থেকেই অফিসে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও নায়েব ও সহকারী নায়েবের দেখা না পাওয়ায় অনেকেই সেবা না নিয়েই ফিরে যাওয়ার পরিস্থিতিতে পড়েন।
সাবেক সেনাসদস্য মনির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, কয়েকটি জমির নামজারি করার বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসের নায়েবের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। এ সময় প্রতি নামজারির জন্য এক লাখ টাকা করে দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তার সম্পত্তির নামজারি বাতিল করা হয়েছে বলেও দাবি করেন মনির হোসেন।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দেওয়ার পর ওই কর্মকর্তা তাকে ফোন করে টাকা ছাড়াই নামজারি করে দেওয়ার কথা বলেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ভূমি অফিসের নায়েব দুলাল চন্দ্র দাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্য এক ভুক্তভোগী জানান, এরশাদের আমলে খাজনা মওকুফ থাকায় তারা নিয়মিত খাজনা দেননি। পরবর্তীতে একবার খাজনা দেওয়ার পর সম্প্রতি আবার খাজনা দিতে গেলে কম্পিউটার সিস্টেমে বিপুল পরিমাণ বকেয়া দেখানো হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অফিসে গেলেও কম্পিউটার সিস্টেমে খাজনা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনরত এক নারী সহকারী স্টাফ ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণ করেন। পরে সাংবাদিকরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে ভিডিওটি মুছে দিতে বললে তিনি ভিডিওটি ডিলিট করেন। এ সময় ওই নারী স্টাফের আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন উপস্থিতরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসে নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকায় সাধারণ মানুষকে ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে এসে বারবার হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
