Probhat Barta

শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬, রাত ৪:১৪ মিনিট

অনুসরণ করুনঃ

ফতুল্লায় মাদকের সয়লাভ কুতুবপুর হাত বাড়ালে মিলছে মাদক

ফতুল্লা প্রতিনিধি : আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্লিপ্ততা আর রাজনৈতিক নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ফতুল্লার পাগলার কুতুবপুরে মাদক ব্যবসায়ীরা হয়ে উঠেছে অতিমাত্রায় বেপোরোয়া। কোন প্রকার রাখ ঢাক না রেখেই মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে বেচা কেনা করছে মাদক।পুরো কুতুবপুরে মাদক হয়ে উঠেছে অতিমাত্রায় সহজলভ্য।হাত বাড়ালেই মিলছে ফেনসিডিল,হেরোইন,মদ,গাঁজা, হালের ক্রেজ খ্যাত মাদক ইয়াবা ট্যাবলেট সহ নানা জাতীয় মাদক দ্রব্য।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থায় সুবিধাজনক দিক, শ্রমঘন এলাকা-সব মিলিয়ে কুতুবপুর বরাবরই মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট পয়েন্ট। আর এর সুযোগ মাদক ব্যবসায়ীরা নিচ্ছে বেশ ভালোভাবেই।ইউনিয়নের রসুলপুর,আকনপট্টি নয়ামাটি, শরীফবাগ, আমতলা, শাহীবাজার, বউবাজার, চিতাশাল, মুন্সিবাগ, বাদামতলা, শহীদনগর, আদর্শনগর, নূরবাগ, কুসুমবাগ, খালপাড়, দেলপাড়া, রেললাইন বটতলা,শাহিবাজার,, নন্দলালপুর,ভূইগড়, মাহমুদপুর, রঘুনাথপুর, তুষারধারা, পাগলা, জেলেপাড়া, মুসলিমপাড়া, নিশ্চিন্তপুরসহ আনাচেকানাচে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা।

সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়িতে পাখাশা মাজারের পাশেই প্রকাশ্যে বসছে মাদকের হাট। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এ মাদকের স্পট। এরফলে এলাকার যুব সমাজ পতিত হচ্ছে ধ্বংসের মুখে।

স্থানীয়দের অভিযোগ মরহুম আলকাস ফকিরের ছেলে ভুমিদস্যু নুর ইসলামের ছত্রছায়ায় তনু (৪৫) ও আলামিন (৪০) নামে দুই মাদক কারবারি এ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায় পাখাসার মাজারের সাবেক খাদেম পরিচয়দানকারী এই নুর ইসলামের ব্যাপক প্রভাব রয়েছেএলাকায়। তার নামে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ভূমিদস্যুতার একাধিক অভিযোগ ও রয়েছে।পাখাশার মাজারের পাশে সীমানা গেছে তার বাড়ি দীর্ঘদিন যাবত মাদকের স্পটে পরিণত। দেখার যেনো কেউ নেই।

কুতুবপুরে ভুইঘর দেলপাড়া এলাকার মাসুম বেশ কিছুদিন আগে র‍্যাব এগারোর হাতে ধরা পড়লেও তার রয়ে গেছে বিশাল এক মাদকের সেন্টিগ্রেট এখন নিজেকে আদম ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকলেও,
মাদক ব্যবসাটি পরিচালনা করে আসছে, মাসুমের ছোট ভাই, শামীম ও শামীমের শালা মোরসালিন, মাসুম স্থায়ী বাসিন্দা কুমিল্লার
মোরসালিন ও শামী নারায়ণগঞ্জ লিং রোড সাইনবোর্ড থেকে চাষারা পর্যন্ত অটো চালায়, এতে করে তারা মাদক বহন করে বিভিন্ন জায়গায় আদান প্রদান করে,
মোরসালিন বেশ কিছুদিন আগে

নারায়ণগঞ্জ ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে মাদকসহ গ্রেপ্তার হয় , ভ্রাম্যমান আদালতে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমী বেনজিরা, ৩৬.১.২৩ ধারা তিন মাসের সাজা প্রদান করেন, পাগলা কুতুবপুর শাহীবাজার এলাকায় রয়েছে রানু বাহিনীর বিশাল সিন্ডিকেট,

কুতুবপুরে মাসুম দেলপাড়া এলাকায় তার পরিবার নিয়ে বসবাস করে তিনি দেলপাড়া হিমেল ও কাউসার আমির হোসেন এদের দ্বারা মাদক ব্যবসাটি পরিচালনা করে আসছে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত। তাদের নামে কয়েক ডজন মাদক মামলা রয়েছে তাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে,হিমেল , মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি

সুযোগ পেলেই মাদকের বিরদ্ধে বেশ উচ্চকণ্ঠ বক্তব্য রাখেন কুতুবপুরের রাজনৈতিক নেতারা। মসজিদ কি মন্দির,রাজনৈতিক মঞ্চ এমনকি জানাযাতে গিয়েও মাদক এবং কিশোর গ্যাং বিরোধী বক্তব্য দিতে দেখা যায় তাদের।মাদক ব্যবসায়ীদের গালিগালাজ দেওয়া ছাড়াও তাঁদের ধরে পেটানোর হুমকিও দিচ্ছেন ক্ষমতাশালী নেতারা। এমন বক্তব্যে তারা বেশ বাহবাও পেয়ে থাকেন পাশাপাশি টিপ্পনি ও কাটেন অনেকেই। কিন্তু সেই নেতােদর আপনজন-ঘনিষ্ঠেজনেরাই মাদক ব্যবসা ও সেবনের সাথে জড়িত রয়েছেন এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়বাসীর। কুতবপুরের চিত্র এমনই বলে মতামত জনসাধারণের। প্রকাশ্যে মুখ খুলতে না পারলেও বক্তাদের এমন হাস্যকর কার্যকলাপের ব্যাপারে নিকটজনদের কাছে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।

তথ্য মতে, রাজনৈতিক শেল্টার হয়ে উঠছে মাদক ব্যবসায়ীদের প্রধান হাতিয়ার। অভিযোগ আছে, এই অঞ্চলের মূলধারার অনেক রাজনৈতিক নেতা সরাসরি মাদক ব্যবসায় শেল্টার দিয়ে থাকেন। এমনকি অনেকের পরিবারের সদস্যেরাও মাদক সেবন ও ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত। এছাড়া অনেক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে শেল্টার দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে নেতাদের বিরুদ্ধে। মাদক ব্যবসায় অভিযুক্ত অনেককেই নেতাদের আশেপাশে দেখা যায়। এমনকি বিভিন্ন উপলক্ষে নেতাদের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার-ফেস্টুনও তৈরি করেন তারা। আর মাদক ব্যবসার মাধ্যমেই অঢেল অর্থের মালিক হয়েছেন নেতাদের কেউ কেউ, এমন গুঞ্জনও চাউর আছে।

কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতের সঙ্গেও মাদকের পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিমত বিশিষ্টজনদের। তারা বলছেন, সুলভে মাদক দিয়েই উঠতি কিশোরদের গ্যাংয়ে ভিড়ানো হয়। একসময় মাদকের অর্থ জোগাতে সেইসব কিশোরেরা হয়ে উঠে মাদক ব্যবসায়ী। ব্যবসা ও আধিপত্য বজায় রাখতে সংঘাতেও জড়িয়ে পরতে দেখা যায় তাদের।

About The Author

শেয়ার করুন :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পর্কিত: