Probhat Barta

তিতাসে পৃথক হামলায় মসজিদে যাওয়ার পথে শিক্ষকসহ আহত-৪

মোঃ রকিবুল ইসলাম রিপন স্ট্যাফ রিপোর্টারঃ কুমিল্লার তিতাসে পৃথক দুটি হামলার ঘটনায় মাছিমপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও শিক্ষক হাজী আবদুস সালাম মাস্টারসহ চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাওয়ার পথে আবদুল সালাম মাস্টারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। একই দিন সকালে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আহত হন তিনজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মাছিমপুর পশ্চিম বাজারে মাস্টার ওয়ালটন শোরুমসংলগ্ন নাগেরচর-মাছিমপুর বাজার সড়কের মাথায় পৌঁছালে হাজী আবদুস সালাম মাস্টারের ওপর হামলা চালায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা পাঁচজনসহ একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা পেছন দিক থেকে তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আবদুস সালাম মাস্টারের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কড়িকান্দি ইউনিয়নের কাপাশকান্দি গ্রামে দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে বিল্লাল হোসেন (৩৮) ও জুরু মিয়ার ছেলে শাহজালালের (৩৮) মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের তিনজন গুরুতর আহত হন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন বিল্লাল হোসেন, তাঁর সহোদর ভাই তাহিদ (২২) এবং অপর পক্ষের শাহজালাল (৩৮)। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিল্লাল ও তাহিদ,অপর পক্ষের শাহ জালালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ফজরের নামাজ আদায় করতে যাওয়ার পথে একজন শিক্ষক ও বাজার কমিটির সভাপতির ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এসব ঘটনা নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাঁদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, একজন মানুষ ধর্মীয় উপাসনার উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়ার পথেও যদি হামলার শিকার হন, তাহলে সমাজের নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে?
স্থানীয়দের অনেকে এলাকায় মাদক, কিশোর গ্যাং ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক দায়িত্বশীলতা জোরদার করা প্রয়োজন।

About The Author

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *