Probhat Barta

নারায়ণগঞ্জের ভুইঘর রূপায়নে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী পরিবারবর্গের উপর সন্ত্রাসী হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: অদ্য ২৮ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার বিকাল ০৩:০০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ গণঅভ্যুত্থান ফোর্স এর উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের ভুইঘর রূপায়নে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত মানববন্ধনে সংগঠনের আহ্বায়ক মোঃ খলিলুর রহমান সহ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোস্তফা জাফর হায়দার পাশার সঞ্চালনায় এবং নির্যাতিত পরিবারবর্গ সদস্য শিউলী বেগম, লাকি আক্তার, রাজিয়া সুলতানা ও মোঃ জিদান উপস্থিত ছিলেন।

নির্যাতিত সদস্য শিউলী আক্তার বলেন- আমি রাজিয়া সুলতানার বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করি। গত ০৫/১০/২০২৬ইং তারিখে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীর প্রেক্ষিতে বিপ্লব মিয়া আমার মালিকের উপর সন্ত্রাসী হামালার ঘটনার পর গত ২৪/১০/২০২৬ তারিখে আমি কাজের উদ্দেশ্যে মালিকের বাসায় যাই। তখন আমার মালিক বাসায় না থাকায় উক্ত সন্ত্রাসীরা আমার উপর অতর্কিত হামলা করে এবং ৪র্থ তলা থেকে নির্যাতন করতে করতে আমাকে তাদের অফিসে নিয়ে যায় এবং সেখানেও তারা আমার উপর নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে আমার কাছে থাকা মালিকের বাসার চাবি রেখে দেয়।

লাকি আক্তার বলেন- রাজিয়া সুলতানার পরিবারের উপর হামলার কথা শুনে আমি তাদের বাসায় গেলে বিপ্লব মিয়া গং সন্ত্রাসীরা আমার উপর হামলা করে এবং আমাকে চর থাপ্পর দিয়ে আমাকে ওখান থেকে সরিয়ে দিয়ে বলে আর যেন সেখানে না যাই এবং আমাকে গেলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

রাজিয়া সুলতানা বলেন- আমি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ এখানে বসবাস করে আসছি। ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর এই চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বিপ্লব মিয়া গং আমার কাছে বিভিন্ন সময় চাঁদাদাবী করে। এক পর্যায়ে গত ১৭/০৯/২০২৬ইং তারিখে আমি ঢাকা সোসাইটি অন্তর্গত নারায়ণগঞ্জ ভুইঘর রূপায়ন টাউনের অফিসে অভিযোগ করি এবং সন্ত্রাসী বিপ্লবের সকল অপকর্ম তুলেধরি।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ০৫/১০/২০২৬ তারিখে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী বিপ্লব মিয়া বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে ঢাকা সোসাইটির সদস্যদের সামনেই আমার উপর অতর্কিত হামলা করে। পরবর্তীতে আমরা ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ সদস্যরা আমাদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান এবং আমরা থানায় তাহার বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলে ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। আমরা বিষয়টি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানাইলে পরে চাঁদাবাজি থাকবে না শর্তে ওসি মামলা গ্রহণ করে। বর্তমানে ফতুল্লা মডেল থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করতে গেলে ওসি সন্ত্রাসী বিপ্লব মিয়া গংদেরকে দেখিয়ে দেয়।

এশিয়া প্যাসেফিক ইস্কা ব্রোঞ্চ ম্যাডেলিস্ট মোঃ জিদান বলেন- আমি একজন আন্তর্জাতিক বক্সার। আমি রক্ত, ঘাম ঝড়িয়ে বাংলাদেশের জন্য সুনাম অর্জন করার চেষ্টা করি। কিন্তু ইস্কা বাংলাদেশে ডিরেক্টর মেহেদী হাসান পলক ও আদম ব্যবসায়ী মোঃ সাদ্দাম হোসেন অনিক আমাকে অবৈধভাবে তাদের কিছু লোকজন আমার সাথে খেলার উদ্দেশ্যে নিয়ে যেতে বলে। আমি এই অবৈধ কাজে অস্বীকৃতি জানাইলে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হামলা চালায়।

সংগঠনের আহ্বায়ক মোঃ খলিলুর রহমান বলেন- ২৪ এর ৫ আগস্ট এর পতিত স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াকুয়া সৈনিক রাজিয়া সুলতানা, জিদান এর পরিবারের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি আরো বলেন- বিপ্লব মিয়া ২৪ এর ছাত্র জনতা হত্যাসহ চাদাবাজি ও চেক জালিয়াতির মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কেন তাকে গ্রেপ্তার করছে না? মামলা গুলো হলো: ৮৩৯/২৪, সিআর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী, ভাঙ্গা, ফরিদপুর। ১৪৫/২৪, জিআর, পলাতক আসামী, দাউদকান্দি, কুমিল্লা। ২৪/২০২৬ ফতুল্লা থানা। যতটুকু জানতে পারি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জনাব মামুন মাহমুদ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের হাজী মাজেদুল হক মাজুর আশ্রয় প্রশ্রয়ে কয়েকগুটি কতিথ ভাগিনার মধ্যে বিপ্লব মিয়া একজন। তারা বিপ্লব মিয়া গংদেরকে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি করিয়ে সরকারকে বিতর্কিত করছে। সরকারের সুনাম রক্ষার্থে বিপ্লব মিয়া গংদেরকে অতি দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানাচ্ছি।

About The Author

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *