প্রভাত বার্তা.কম : কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মাসিককালীন স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ৮-১০-২৬ইং সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ‘কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা: আজকের যত্ন, আগামীর সুস্থতা’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
Climate Resilient Campus Initiative-এর আওতায় বুধবার নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় উপজেলার ৩৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৬৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপদ স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেলিনা এ চৌধুরী।
কর্মশালা শেষে ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিশোরীদের স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিন বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, কিশোরীরাই আগামী দিনের মা, আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি জাতীয় উন্নয়নের সাথে জড়িত। মাসিক নিয়ে আমাদের সমাজে যে সংকোচ ও কুসংস্কার আছে, তা ভাঙতে হবে। বিদ্যালয়ে একটি মেয়ে যেন মাসিকের কারণে ক্লাসে অনুপস্থিত না থাকে, অস্বস্তিতে না ভোগে, সে জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের পাশাপাশি স্যানিটারি প্যাডের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, একজন কিশোরী যখন সুস্থ থাকবে, তখন সে শিক্ষায় মনোযোগী হবে, আত্মবিশ্বাসী হবে। আমরা চাই না কোনো শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যগত কারণে ঝরে পড়ুক। Climate Resilient Campus Initiative এর মাধ্যমে আমরা জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
সভাপতির বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, বর্তমান সময়ে কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাসিককালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধার অভাব শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তিনি বলেন, আজ ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের ১৬৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এখানে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তারা নিজ নিজ বিদ্যালয়ে গিয়ে আরও শত শত শিক্ষার্থীকে সচেতন করবে। আজ ১৫টি প্রতিষ্ঠানে ভেন্ডিং মেশিন দেওয়া হলো, পর্যায়ক্রমে সদর উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের সময়ে সহজে স্যানিটারি প্যাড পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং গোপনীয়তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হবে।
বক্তারা বলেন, কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা তাদের শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস, ভবিষ্যৎ কর্মজীবন এবং সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। তাই বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলার পাশাপাশি নিরাপদ পানি ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
