প্রভাত বার্তা.কম : জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সাবেক নেতা ও ইসলামী বক্তা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
হুবহু জাগো নারায়ণগঞ্জ ২৪.কম পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলোঃ
তাঁর বিচার, দণ্ড ও কারাবরণ নিয়ে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন তিনি। তাঁর মামলায় মানিক পশারির ভূমিকা ও সাক্ষ্য নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যেগুলোর সত্যতা প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
ওই মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার পর মানিক পশারি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, তাঁর বড় ভাই চান মিয়া পশারিকে প্রথমে এই প্রস্তাব দেওয়া হয় তা করাতে উক্ত চান মিয়া পশারিকে বিভিন্ন হুমকি ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়।
সুখরঞ্জন বালিকে তো মিথ্যা স্বাক্ষ্য না দেওয়াতে পেরে ট্রাইবুনালের সামনে থেকে উঠিয়ে নিয়েছিল পরে থাকে ভারতে সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। সাঈদী সাহেবের মৃত্যুর পর তার জানাজায় তাকে দেখা যায়।
গত ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জে পালিয়ে যাওয়ার পর মানিক পশারি ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাঁর মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে দাফন করা হয়। তাঁর জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই আজ কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে।
পিরোজপুরের সবাই কি জামায়াতের রাজনীতি করেন?
যদি স্থানীয় মানুষের বড় একটি অংশ তাঁর জানাজা বা দাফনে অংশ না নিয়ে থাকে, তাহলে সেটিকে শুধু জামায়াতে ইসলামীর সিদ্ধান্ত বা প্রভাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা কতটা যুক্তিসংগত? স্থানীয় মানুষের মনোভাব, তাঁদের ব্যক্তিগত অবস্থান এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ না জেনে একটি রাজনৈতিক দলের ওপর সব দায় চাপিয়ে দেওয়া কি ন্যায়সংগত?
জানাজায় বাধা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ কোথায়?
কেউ যদি অভিযোগ করেন যে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা জানাজায় বাধা দিয়েছেন, তাহলে সেই অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা উচিত। স্থানীয় বিএনপি কিংবা অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কী ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁরা কি জানাজার আয়োজন বা দাফনের বিষয়ে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছিলেন—এসব প্রশ্নেরও নিরপেক্ষ উত্তর প্রয়োজন।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে যারা জামায়াতকে দায়ী করছে তা অন্যায়।
গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ কি সবাই ভুলে গেছেন?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, বিচার ও দণ্ড নিয়ে বহু বিতর্ক রয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে আজ যারা সরব, তাঁদের কাছেও প্রশ্ন—রাজনৈতিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্নে তাঁরা কি সব সময় একইভাবে সোচ্চার ছিলেন? অতীতে অন্যায়ের অভিযোগের সময় নীরব থেকে আজ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে একতরফা প্রচারণা চালানো হলে সেই অবস্থানের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
মানিক পশারিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের কারণ কী ছিল?
মানিক পশারির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ও বিতর্কের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। তাঁর আপন বড় ভাই চান মিয়া পশারিও যদি তাঁর ভূমিকার বিরোধিতা করে থাকেন, তাহলে সেই বিরোধিতার কারণ ও প্রেক্ষাপটও নিরপেক্ষভাবে জানা উচিত। তবে পারিবারিক বিরোধ বা জানাজায় মানুষের অনুপস্থিতি একাই কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে না।
একজন ব্যক্তির জানাজা ও দাফনের মতো সংবেদনশীল ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রচারণার হাতিয়ার বানানো উচিত নয়।
