Probhat Barta

শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২৬, ভোর ৫:৪৩ মিনিট

অনুসরণ করুনঃ

ফতুল্লা কুতুবপুরে হাত বাড়ালেই মাদক দেখার কেউ নেই

ফতুল্লা প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে গ্রেফতার হচ্ছে না ফতুল্লার আলোচিত মাদক ব্যবসায়ীরা। ধরাছোঁয়ার বাহিরে বিশেষ করে গত দুই বছরে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় তাঁদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে। সবাই আলীশান জীবন যাপন করছে। আগে এসব ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে আসলেও এখন তাঁরা পর্দার আড়ালে থেকে বিশাল বাহিনী নিয়ে কৌশল পাল্টে মাদক ব্যবসা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দুই বছর আগেও যাদের নূন আনতে পান্তা ফুরাতো এখন এইসব মাদক ব্যবসায়ীদের কেউ বহুতল ভবনের মালিক হয়েছে কেউ দামী গাড়ি হাঁকিয়ে চলছে। আর এদের পেছনে শেল্টারদাতা হিসেবে রয়েছে কোন না কোন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা কিংবা নামধারী কোন সাংবাদিক। ফলে চিহ্নত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাহস করে প্রতিবাদ করছে না কেউ। প্রতিবাদ কিংবা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও নানাভাবে হয়রানীর শিকার হতে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

সচেতন মহলের মতে, ফতুল্লার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং শেল্টারদাতাদের আইনের আওতায় আনা জরুরী। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। তথ্যমতে, ফতুল্লার আলোচিত এবং পুলিশের তালিকা ভূক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতন হচ্ছে, জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইব্রাহীম ওরফে ইবু ফতুল্লা জোরপুল এলাকায় অবস্থান নিয়ে ফতুল্লা এবং ফতুল্লার বাইরের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। মাদক ব্যবসা করে কোটিপতি বনে যাওয়া ইবু এখন মাদকের গডফাদার হিসেবে পরিচিত।

দাপা ব্যাংককলোনী এলাকার ডাকাত শাহীনের পুরো পরিবার মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। এক ভাই বোমা লিপু কয়েক বছর আগে ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধ নিহত হয়েছে। ডাকাত লিপুর মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে তার-ই ভাই ডিসান,ডাকাত শাহীন, ভাতিজা আলামিন,রাজিব। মাদক ব্যবসা করে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছে এই পরিবার। একই এলাকায় মহসিন, শাকিল, সুরু বাবু বিশাল বাহিনী নিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। ডিসান ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। ডাকাত দিন ইসলাম মাদক ব্যবসা করছে অনেক দিন ধরে। বাক প্রতিবন্ধী ভাইদের দিয়ে এই ব্যবসা পরিচালনা করছে। স্টেশন এলাকার নাসির শেঠ অরুফে গরু নাসির, তাঁর বোন হেনা, ছেলে শান্ত, ভাগ্নে বিপ্লব দীর্ঘদিন গাঁজা এবং হেরোইনের ব্যবসার সাথে জড়িত। প্রতিদিন ভোরে মাদকের হাট বসিয়ে মাদক বিক্রি করছে দীর্ঘদিন ধরে।

বহুতল ভবনের মালিক হয়েছে আলীগঞ্জের শান্ত,শল্টুু রাসেল বিশাল বাহিনী নিয়ে মাদকের হাট বসিয়েছে পুরো আলীগঞ্জ জুড়ে। সুকৌশলে মাদকের রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে এই দুই ব্যবসায়ী। সেহাচর হাজী বাড়ী এলাকার মনার মাদক ব্যবসা বহু বছরের পুরনো। দাপা শৈলকুড়া এলাকার ছাত্রদল ক্যাডার দিপু আলোচনার বাইরে থেকে কয়েক বছর ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। সব সময়ই আলোচনার বাইরে থেকে ব্যবসা করছে তিনি। মাদকের অন্যতম ডিলার ডাকাত শাহাবুদ্দিন। দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে দাপা, শাহজাহান রোলিং মিল এলাকায় চলছে তার মাদক ব্যবসা।

এছড়াও ফাহিমের পুরো পরিবার নিয়ে কয়েক বছর ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছে তার স্ত্রী বকুল। লামাপাড়া এলাকার আলোচিত, মিথুন মাদকের গডফাদার বনে গেছে। তারা দু’জনেই এখন আলোচনার বাইরে রয়েছে। জামতলার আপেল অধরা দীর্ঘদিন ধরে। সস্তাপুরের মাদক ব্যবসায়ী মোল্লা মামুনের সহযোগী কোতালেরবাগের দিপু মাদকসহ কুমিল্লায় গ্রেফতারের পর আলোচনায় আসে বোমা মতি এবং রুবেলের মাদক ব্যবসার অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও বরাবরই আলোচনার বাইরে থেকে গেছে।

মাদকের রাঘববোয়ালদের পাশাপাশী, শাহজাহান রোলিং মিলের মোটা সোহেল, ভাগ্নে আলামিন, সেরুবাবু, চুইল্যা বাবু, মোল্লা রাসেল, দিল মোহাম্মদ অরুফে দিলা, সুমন, নূর মসজিদের মনির, মোরশেদ, আলম, সাইফুল, মেলা মিন্টু, আলপনা, দাপা এলাকার,আলামিন, আলী, হাজীবাড়ীর আলতাফ, শাওন, মুন্না, খাবাড়ীর রাসেল, কাশেম বাবুর্চি, সুমন, মাইছ্যা শাহজাহান, তাঁরা মেয়ে স্মৃতি, ফাহিম, লাকি, হেনা, ডিব্বা সোহেল, বালুমাঠের টাউক্কা জাকির, লালপুরের কানা সুমন, রনি, জাফর, রোস্তম, পিলকুনি জোড়া মসজিদ এলাকার মেলা মিন্টু, মাইছ্যা আলম, সাইফুল, নাইট পারভীন হান্ড্রেড বাবু, জনি, বাবু অন্যতম।

এনামুল,পিতা ওহাব,ফতুল্লা মাদকের ওয়ারেন্টের আসামি পুলিশের সোর্স ব্যবহার করে মাদক ব্যাবসাটি পরিচালনা করছে, আলোচনার বাইরে থাকা এসব মাদক ব্যবসায়ীদে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপ দাবী করেছে ফতুল্লাবাসী।

কুতুবপুর বরাবরই মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট পয়েন্ট। আর এর সুযোগ মাদক ব্যবসায়ীরা নিচ্ছে, রসুলপুর,আকনপট্টি নয়ামাটি, শরীফবাগ, আমতলা, শাহীবাজার, বউবাজার, চিতাশাল, মুন্সিবাগ, বাদামতলা, শহীদনগর, আদর্শনগর, নূরবাগ, কুসুমবাগ, খালপাড়, দেলপাড়া, রেললাইন বটতলা,শাহিবাজার,, নন্দলালপুর,ভূইগড়, মাহমুদপুর, রঘুনাথপুর, তুষারধারা, পাগলা, জেলেপাড়া, মুসলিমপাড়া, নিশ্চিন্তপুরসহ আনাচেকানাচে চলছে মাদকের রমরমা ব্যাবসা,

কুতুবপুরে ভুইঘর দেলপাড়া এলাকার মাসুম বেশ কিছুদিন আগে র‍্যাব এগারোর হাতে ধরা পড়লেও তার রয়ে গেছে বিশাল এক মাদকের সেন্টিগ্রেট এখন নিজেকে আদম ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকলেও মাদক ব্যবসাটি পরিচালনা করে আসছে, মাসুমের ছোট ভাই, শামীম ও শামীমের শালা মোরসালিন পিতা শাহজাহান সরদার, মাসুম স্থায়ী বাসিন্দা কুমিল্লার। মোরসালিন ও শামীম নারায়ণগঞ্জ লিং রোড সাইনবোর্ড থেকে চাষারা পর্যন্ত অটো চালায়, এতে করে তারা মাদক বহন করে বিভিন্ন জায়গায় আদান প্রদান করে,মোরসালিন পিতা সারজাহান সরদার,বেশ কিছুদিন আগে
নারায়ণগঞ্জ ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে মাদকসহ গ্রেপ্তার হয় , ভ্রাম্যমান আদালতে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমী বেনজিরা, ৩৬.১.২৩ ধারা তিন মাসের সাজা প্রদান করেন।

পাগলা কুতুবপুর শাহীবাজার এলাকায় রয়েছে রানু বাহিনীর বিশাল সিন্ডিকেট।কুতুবপুরে মাসুম দেলপাড়া এলাকায় তার পরিবার নিয়ে বসবাস করে তিনি দেলপাড়া হিমেল ও কাউসার আমির হোসেন এদের দ্বারা মাদক ব্যবসাটি পরিচালনা করে আসছে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত। তাদের নামে কয়েক ডজন মাদক মামলা রয়েছেতাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে,হিমেল, মামুন ওরফে ইয়াবা মামুন পিতা নুর ইসলাম বাঘা,
বাবু ওরফে ইয়াবা, বাবু, পিতা মৃত জলিল।

মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি

সুযোগ পেলেই মাদকের বিরদ্ধে বেশ উচ্চকণ্ঠ বক্তব্য রাখেন কুতুবপুরের রাজনৈতিক নেতারা। মসজিদ কি মন্দির,রাজনৈতিক মঞ্চ এমনকি জানাযাতে গিয়েও মাদক এবং কিশোর গ্যাং বিরোধী বক্তব্য দিতে দেখা যায় তাদের।মাদক ব্যবসায়ীদের গালিগালাজ দেওয়া ছাড়াও তাঁদের ধরে পেটানোর হুমকিও দিচ্ছেন ক্ষমতাশালী নেতারা। এমন বক্তব্যে তারা বেশ বাহবাও পেয়ে থাকেন পাশাপাশি টিপ্পনি ও কাটেন অনেকেই। কিন্তু সেই নেতাদের আপনজন-ঘনিষ্ঠেজনেরাই মাদক ব্যবসা ও সেবনের সাথে জড়িত রয়েছেন এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়বাসীর। কুতবপুরের চিত্র এমনই বলে মতামত জনসাধারণের। প্রকাশ্যে মুখ খুলতে না পারলেও বক্তাদের এমন হাস্যকর কার্যকলাপের ব্যাপারে নিকটজনদের কাছে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।

তথ্য মতে, রাজনৈতিক শেল্টার হয়ে উঠছে মাদক ব্যবসায়ীদের প্রধান হাতিয়ার। অভিযোগ আছে, এই অঞ্চলের মূলধারার অনেক রাজনৈতিক নেতা সরাসরি মাদক ব্যবসায় শেল্টার দিয়ে থাকেন। এমনকি অনেকের পরিবারের সদস্যেরাও মাদক সেবন ও ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত। এছাড়া অনেক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে শেল্টার দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে নেতাদের বিরুদ্ধে। মাদক ব্যবসায় অভিযুক্ত অনেককেই নেতাদের আশেপাশে দেখা যায়। এমনকি বিভিন্ন উপলক্ষে নেতাদের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার-ফেস্টুনও তৈরি করে তারা। আর মাদক ব্যবসার মাধ্যমেই অঢেল অর্থের মালিক হয়েছেন নেতাদের কেউ কেউ, এমন গুঞ্জনও চাউর আছে।

কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতের সঙ্গেও মাদকের পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিমত বিশিষ্টজনদের। তারা বলছেন, সুলভে মাদক দিয়েই উঠতি কিশোরদের গ্যাংয়ে ভিড়ানো হয়। একসময় মাদকের অর্থ জোগাতে সেইসব কিশোরেরা হয়ে উঠে মাদক ব্যবসায়ী। ব্যবসা ও আধিপত্য বজায় রাখতে সংঘাতেও জড়িয়ে পরতে দেখা যায় তাদের।

About The Author

শেয়ার করুন :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পর্কিত: